Saturday, May 2, 2026

IsDB-BISEW আইটি স্কলারশিপ (IT Scholarship) প্রোগ্রামের বাছাই পরীক্ষা

IsDB-BISEW আইটি স্কলারশিপ (IT Scholarship) প্রোগ্রামের বাছাই পরীক্ষা

আইএসডিবি বাংলাদেশে মুসলিম শিক্ষার্থীদের এটি একটি উন্নত বিশাল সুযোগ

 

 


ISDB-BISEW কি?

ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-বাংলাদেশ ইসলামিক সলিডারিটি এডুকেশনাল ওয়াকফ (আইএসডিবি-বিআইএসইডব্লিউ) ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জেদ্দা, সৌদি আরব এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি চুক্তির পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আইএসডিবি-বিআইএসইডব্লিউ শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের ক্ষেত্রে প্রকল্প উদ্যোগের অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়।

     IsDB-BISEW IT স্কলারশিপ প্রোগ্রাম কি?

এটি একটি প্রযুক্তি দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প যার অধীনে বৃত্তি বিজয়ীদের আইটি বিষয়ে বিভিন্ন সময়কালের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় যার ফলে একটি সার্টিফিকেট বা পেশাদার ডিপ্লোমা হয়। আইটি স্কলারশিপ প্রোগ্রামের গ্রাজুয়েটরা দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইটি পেশাদার হিসেবে নিযুক্ত হন।

     একজন প্রার্থী এই প্রোগ্রাম থেকে কি সুবিধা পাবেন?

নির্বাচিত প্রার্থীরা ঢাকা বা চট্টগ্রামের যেকোনো একটি প্রিমিয়ার ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা লেভেল কোর্সে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আর্থিক দিক থেকে, এই কোর্সগুলির মূল্য আনুমানিক টাকা। শুধুমাত্র প্রশিক্ষণের জন্য 200,000।

     বৃত্তি কভার হবে কি?

বৃত্তি প্রদান করা প্রতিটি কোর্সের জন্য সম্পূর্ণ টিউশন ফি (পাঠ্যপুস্তক সহ) কভার করে। প্রশিক্ষণ চলাকালীন খাবার, বাসস্থান এবং পরিবহনের জন্য প্রার্থীর যে খরচ হবে তা বৃত্তিটি কভার করে না।

     বছরে কতবার শিক্ষার্থী গ্রহণ করে?

একটি প্রোগ্রাম বছরে 5 বার ছাত্র গ্রহণ করা হবে। পূর্বের প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলে প্রার্থীরা একাধিক গ্রহণে আবেদন করতে পারে।

     কারা বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারে?

এই বৃত্তি শুধুমাত্র মুসলিম যুবকদের জন্য যারা ইতিমধ্যেই স্নাতক (পাস কোর্স/অনার্স)/ফাজিল বা মাস্টার্স/কামিল ডিগ্রি পরীক্ষা বা সিভিল/কম্পিউটার/টেলিকমিউনিকেশন/ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এ 4-বছরের ডিপ্লোমা পাস করেছেন।

     বৃত্তির জন্য আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের কি পূর্বে কম্পিউটিং জ্ঞান থাকতে হবে?

কম্পিউটিং সম্পর্কে কোন পূর্ব জ্ঞান নেই এমন প্রার্থীরা বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

     প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত পদক্ষেপগুলি কী কী?

আইএসডিবি-বিআইএসইডব্লিউ স্কলারশিপ প্রোগ্রামের অধীনে প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত পদক্ষেপগুলি নিম্নরূপ:

         apply.IsDB-BISEW.info ওয়েব লিঙ্কে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করুন
         ফর্ম পূরণ করার আগে প্রদত্ত নির্দেশাবলী সাবধানে পড়ুন। আপনার একাডেমিক সার্টিফিকেট/মার্ক-শীট এবং আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে রাখুন কারণ ফর্মটি পূরণ করতে আপনার এগুলোর প্রয়োজন হবে
         প্রার্থীকে উল্লিখিত বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বরে আবেদন ফি হিসাবে বিকাশের মাধ্যমে 100 টাকা দিতে হবে। বিকাশ লেনদেন আইডি সহ ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য লিখুন এবং সাবমিট বোতামে ক্লিক করুন
         স্ক্রিনে দেখানো অ্যাডমিট কার্ডের দুটি কপি প্রিন্ট আউট করুন এবং অ্যাপটিটিউড টেস্টের জন্য উপস্থিত হলে উভয় কপি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে আসুন।
         আপনি যদি সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে প্রবেশ করেন এবং আপনি স্কলারশিপের জন্য যোগ্য হন তবে আপনাকে ইন্টারভিউ/অ্যাপটিটিউড টেস্ট বা প্রোগ্রাম কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন অনুসারে অন্য কোনও স্ক্রীনিং প্রক্রিয়ায় উপস্থিত হওয়ার জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হবে।
         আপনি যদি সমস্ত স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া পাস করেন তবে আপনাকে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হবে

 

     কিভাবে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করবেন?

প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে অনুগ্রহ করে নিম্নলিখিত লিঙ্কে যান: http://apply.isdb-bisew.info/candidateInformation/findadmitcard

     প্রশিক্ষণ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?

প্রশিক্ষণ কোর্স ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে।

     কে প্রশিক্ষণ কোর্স প্রদান?

আগের রাউন্ডে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থিত বিভিন্ন আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, যেমন, AT Computer Solution Ltd, Bangladesh IT Institute, Bhuiyan IT Ltd, Dhanmondi, BIRDS A&Z LIMITED, Center for Computer Studies Ltd., Cogent, Daffodil Institute of IT ( চট্টগ্রাম), ডট কম সিস্টেমস, জেনুইটি সিস্টেমস লিমিটেড, ম্যাক্রো সফটওয়্যারস লিমিটেড (চট্টগ্রাম), ঢাকার নিউ হরাইজনস সিএলসি, নিউ ভিশন ইনফরমেশন টেকনোলজি লিমিটেড (চট্টগ্রাম), পিপলএনটেক লিমিটেড, স্টার কম্পিউটার সিস্টেমস লিমিটেড, দ্য কম্পিউটার লিমিটেড ডিএইচকে, এবং ইউএস সফটওয়্যার লিমিটেড প্রশিক্ষণ কোর্স প্রদান করছে। প্রোগ্রামের মানের প্রয়োজনীয়তা এবং শিল্পে তাদের খ্যাতির উপর ভিত্তি করে প্রোগ্রাম কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্বাচন করেছে। অন্যান্য মানের আইটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলি যখন প্রয়োজন হবে তখন তালিকাভুক্ত করা হবে।

     কিভাবে প্রশিক্ষণ বিতরণ করা হবে?

আইটি স্কলারশিপ প্রোগ্রামের অধীনে প্রশিক্ষণ টিএসপি প্রাঙ্গনে ব্যক্তিগত ক্লাসের মাধ্যমে বা অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে বিতরণ করা যেতে পারে।

     দিনের কোন সময়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে?

সমস্ত প্রশিক্ষণ কোর্স সকালের স্লটে (সকাল 9.00 থেকে 1.00 pm) অথবা বিকেলের স্লটে (3.00 pm থেকে 7.00 pm) পরিচালিত হবে।

     অ্যাপটিটিউড টেস্ট বলতে কী বোঝায়?

প্রার্থীর মৌলিক শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়ন করার জন্য, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ একাধিক পছন্দের প্রশ্ন (MCQ) বিন্যাসে এই যোগ্যতা পরীক্ষাটি পরিচালনা করবে। অ্যাপটিটিউড টেস্টে দুটি বিভাগ থাকবে - পরিমাণগত (বাংলায়) বিভাগ এবং ইংরেজি বিভাগ।


পরীক্ষায় কোন পাস মার্ক আছে?

পরীক্ষার জন্য কোনো পাস বা ফেল নম্বর থাকবে না। পরিবর্তে, সফল প্রার্থীদের বাছাই করার জন্য একটি পার্সেন্টাইল র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।

     প্রকল্পে নিয়োগ সহায়তা প্রদান করা হয়?

ISDB-BISEW স্নাতকদের লাভজনক চাকরিতে নিয়োগের জন্য প্রকল্পটির একটি সেল রয়েছে। সেলটি নিয়োগকারীদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং স্নাতকদের জন্য একটি সাক্ষাত্কারের ব্যবস্থা করার জন্য ক্রমাগত কাজ করে। প্রকল্পটি 92% প্লেসমেন্ট রেট উপভোগ করে। প্লেসমেন্ট সেল CareerHub (https://careerhub.isdb-bisew.info) নামে একটি ডেডিকেটেড ওয়েব-ভিত্তিক কাজের সাইট বজায় রাখে। শুধুমাত্র IsDB-BISEW-এর স্নাতকরা এই সাইটে তাদের CV পোস্ট করতে পারেন। নিয়োগকর্তারা এই সাইট থেকে সিভি বাছাই করে এবং ইন্টারভিউ এবং চূড়ান্ত চাকরির জন্য প্রার্থীদের নির্বাচন করে।


  1. IsDB-BISEW কি?
    • Islamic Development Bank-Bangladesh Islamic Solidarity Educational Wakf (IsDB-BISEW) বাংলাদেশ সরকার এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জেদ্দা, সৌদি আরব এর যৌথ উদ্যোগে ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত বিপুল জনগোষ্ঠীকে বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা খাতে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা ও নিজেদের দক্ষতাকে দেশে-বিদেশে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে IsDB-BISEW নিজস্ব অর্থায়নে কর্মমূখী শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকল্প প্রনয়ন, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন করে থাকে।
  2. IsDB-BISEW IT Scholarship Program কি?
    • এটি একটি শিক্ষা প্রকল্প এবং এই কর্মসূচির লক্ষ্য হল উচ্চমানের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক এবং পেশাদার স্তরের আইটি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মেধাবী মুসলিম যুবকদের কর্মসংস্থান বাড়ানো। IsDB-BISEW IT Scholarship Program ২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশের মুসলমান শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ১-বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদানপূর্বক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন IT Professional তৈরী করছে, যাদের অধিকাংশই তথ্যপ্রযুক্তি পেশায় কর্মরত আছে। এ পর্যন্ত ১৬,৮১৫ জন সফল ভাবে IT Professional হয়ে দেশ এবং বিদেশে ৩,২৫৪ টিরও বেশি সংস্থায় কর্মরত রয়েছে।
  3. কারা Scholarship এর জন্য আবেদন করতে পারবে?
    • স্নাতক/ফাজিল/মাস্টার্স/কামিল এবং ৪-বছর মেয়াদী ডিপ্লোমাইন-ইঞ্জিনিয়ারিং (শুধুমাত্র কম্পিউটার/ টেলিকমিউনিকেশন/ ইলেক্ট্রনিক্স/ সিভিল/ আর্কিটেকচার/ সার্ভে/ কন্সট্রাকশন) পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবে ।
    • ডাক্তার, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী ও চাকরিরত প্রার্থীদের জন্য এই Scholarship প্রযোজ্য নয়।
  4. আবেদনকারীর বয়স সীমা কত ?
    • সর্বোচ্চ ৩০ বছর।
  5. এ Scholarship এর আওতায় কি আর্থিক সুবিধা থাকবে?
    • এ প্রকল্পের আওতায় জনপ্রতি প্রশিক্ষণ খরচ  লক্ষ টাকা ব্যয় হয়, যা সম্পূর্ণ ভাবে IsDB-BISEW বহন করে ।
  6. IsDB-BISEW IT Scholarship এ আবেদনের জন্য কি কম্পিউটার/ইনফরমেশন টেকনোলজি দক্ষতার প্রয়োজন?
    • IT Professional Diploma কোর্স করার জন্য কম্পিউটার বিষয়ক পূর্বধারণা থাকা আবশ্যক নয়। কম্পিউটার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা না থাকলেও আবেদন করা যাবে ।
  7. কিভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে?
    • লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
  8. লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
    • লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। MCQ পদ্ধতিতে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের উপর পরীক্ষা নেওয়া হয় |
  9. প্রশিক্ষণ কোথায় দেয়া হবে?
    • ঢাকাচট্টগ্রাম মহানগরীতে মনোনীত ট্রেনিং সেন্টারসমূহে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
  10. প্রশিক্ষণ কোন সময় হবে?
    • প্রশিক্ষণের সময় সকাল ৯.০০ থেকে বেলা ১.০০ অথবা বেলা ৩.০০ থেকে সন্ধ্যা ৭.০০। সপ্তাহে  দিন ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়।
  11. প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের ব্যাপারে কোন সহযোগিতা করা হয় কি?
    • প্রশিক্ষণ শেষে কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় । এ লক্ষ্যে IsDB-BISEW এর Placement Cell সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে ।

 

 


 

যেভাবে কণ্ঠস্বর নকল প্রতারণার ‘ফাঁদ’ থেকে বাঁচবেন

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পরিচিতজনের কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে একটি ভয়েস পাঠিয়ে প্রতারণা করার চেষ্টা হতে পারে। এই অভিনব পদ্ধতি এতটাই নিখুঁতভাবে করা হয় যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে তা ধরা অসম্ভব। তেমনি ইউটিউবের ভিডিও লাইক করতেই ৩৩ লাখ খুঁইয়েছেন এক তরুণী! 

সম্প্রতি এআই ভয়েস ক্লোনিং দিয়ে জালিয়াতি বেড়েছে। পরিচিতজনের কণ্ঠস্বর নকল করে বিভিন্ন ছদ্মবেশে, নানান গালগল্পে, ইমোশনাল বা বেদনাদায়ক কাহিনি বলে প্রতারণা করছে প্রতারক চক্র। বিশেষ করে চক্রগুলো জোর দিচ্ছে জরুরি টাকার প্রয়োজনীয়তায়। অনেকেই এই ফাঁদে পড়ে হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এমনকি জানতে চাওয়া হয় আপনার ব্যক্তিগত তথ্যও। 

এআই ভয়েস ক্লোনিং জালিয়াতি কী?

এআই ভয়েস ক্লোনিংয়ের আরেক নাম ভয়েস সিন্থেসিস বা ভয়েস মিমিক্রি। আসলে এটি একটি প্রযুক্তি, যা মেশিন লার্নিং বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে, যে কোনো ব্যক্তির কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে। এই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজন সামান্য পরিমাণে ভয়েস ডেটা। 

আর যার ভয়েস নকল করা হচ্ছে, তার কণ্ঠস্বর। একাধিক ফ্রি এবং পেইড টুল রয়েছে, যার দ্বারা একজনের গলার নকল খুব সহজেই অন্যজন করে ফেলছেন। 

এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে চাইলে ভয়েস নোট অনলাইনে রাখা যাবে না।  এ ছাড়া যখনই এই ধরনের কল এলে বিশ্বাস না করে সেই ব্যক্তির আসল নম্বরে দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হোন এবং পুরো বিষয়টা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। যদি কেউ ফোন করে আপনার বন্ধু, আত্মীয়-পরিজন বলে দাবি করে টাকা চায়। তবে টাকা পাঠানোর আগে আসল ঘটনা জেনে নিতে হবে।

ঘরে বসে আয়ের মাধ্যম ফ্রিল্যান্সিং

 

সহজ কথায়, ফ্রিল্যান্সিং হলো ইন্টারনেটের সাহায্যে ঘরে বসে অন্য কারো কাজ করে দেওয়া এবং সেখান থেকে আয় করা। 

ফ্রিল্যান্সিং বলতে বুঝায় : 
- মুক্তপেশা এবং আপনি যে বিষয়ে স্কিলড সে বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারবেন। 
- অফিস মেইনটেইন করতে হয় না কিন্তু ঘরে বসে কাজ করতে হয়। 
- পরিপূর্ণ স্বাধীনতা কিন্তু বায়ারকে ডেটলাইন অনুসারে কাজ জমা দিতে হবে। 
- যতখানি কাজ করবেন ঠিক ততখানি পারিশ্রমিক পাবেন কিন্তু কাজের মান হতে হবে আন্তর্জাতিকমানের। 
- ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস (ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ডট কম, নাইনটি নাইন ডিজাইন ইত্যাদি) থেকে আয় করা যায়। 

ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে কিছু কাজের স্কিল থাকতে হবে। যেমন- সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও), ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, কন্টেন্ট রাইটিং ইত্যাদি। 

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস হচ্ছে ফাইভার। যেখানে একজন বায়ার তার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সার্ভিস নিয়ে থাকে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ভালো কাজ জানেন কিন্তু মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন না বা মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকার কারণে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। 

আবার আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা অনেকদিন যাবৎ কাজ করছেন, বেশ ভালো কিছু করেছিলেন প্রথমের দিকে কিন্তু এখন আর কাজ পাচ্ছেন না বা আপনাদের গিগ কোনোভাবেই র‍্যাংক করছে না। তাদের জন্য ফাইভারে সফল হওয়ার কয়েকটি সিক্রেট টিপস- 

১. প্রফেশনাল ফাইভার প্রোফাইল তৈরি 
২. গিগ রিসার্চ ও প্রফেশনাল গিগ তৈরি 
৩. গিগ এসইও ও রেঙ্ক  
৪. বায়ার রিকোয়েস্ট সঠিকভাবে পাঠানো
৫. বায়ার কমিনিকেশন
৬. ফাইভার প্রোফাইল থেকে অনলাইনে থাকা 
৭. গিগ মার্কেটিং

ফাইবার মার্কেটপ্লেসের কিছু নিয়ম রয়েছে। সে নিয়মগুলো মেনে না চললে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করার পূর্বে নিয়মগুলো ভালোভাবে জানতে হবে। 

লেখক: বিজয় রায়, ফাইভার এক্সপার্ট।

মোবাইল ব্যাংকিং ও এটিএম কার্ড প্রতারণা এড়াতে করণীয়

 

যে কোন ধরনের প্রতারণা রোধে বাংলাদেশ পুলিশ সদা সক্রিয়। এ লক্ষ্যে, সন্দেহভাজন প্রতারকদের চিহ্নিত করতে এবং সংগঠিত প্রতারণার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতারকদের আইনের আওতায় আনতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিট। তবে, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করে এ ধরনের অপরাধ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা খুব সহজ নয়। এক্ষেত্রে, সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই, আসুন এ ধরণের প্রতারণা এড়াতে কিছু সাধারণ পরামর্শ মেনে চলি।

মোবাইল ব্যাংকিং ও এটিএম কার্ড প্রতারণার ক্ষেত্রে প্রতারক ব্যক্তি নিজেকে বিকাশ, ইউক্যাশ, রকেট, নগদ বা অন্য যেকোন মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের অথবা আপনার ব্যবহৃত এটিএম কার্ড (ডেবিট/ক্রেডিট) সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হেড অফিস, কোম্পানী অফিস বা আইটি শাখার কর্মকর্তা/কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিতে পারে। প্রতারক ব্যক্তিটি আপনার সঙ্গে অত্যন্ত শুদ্ধ ভাষায় এবং মার্জিতভাবে কথা বলার চেষ্টা করবে।

সিস্টেম মেইনটেনেন্স, তথ্য হালনাগাদ, কাস্টমার ভেরিফিকেশন বা অন্য কোন বিশেষ/জরুরী কারণ দেখিয়ে প্রতারক আপনার বিকাশ, ইউক্যাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদির একাউন্টের বা এটিএম কার্ডের (ডেবিট/ক্রেডিট) গোপন পিন নম্বরটি জানতে চাইবে। পিন নম্বরটি তাকে না জানালে আপনার একাউন্টটি বন্ধ/স্থগিত করে দেয়া হবে মর্মে ভয় দেখাবে।

ফ্যাক্টঃ কোন প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের কোন ব্যক্তি (কর্মকর্তা/কর্মচারী) কখনোই আপনার কোন একাউন্টের গোপন পিন নম্বর বা পাসওয়ার্ড জানতে চাইবেন না, এমনকি কেউ সেটি জানতে চাইতে পারেন না।

পরামর্শঃ এ ধরণের কলে বিচলিত না হয়ে কলটি কেটে দিন এবং পরবর্তীতে ঐ নম্বর থেকে আবার কল আসলে কল রিসিভ করা থেকে বিরত থাকুন। প্রতারণার শিকার হলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ পুলিশকে অবগত করুন।

সাইবার আক্রমণ রোধের পাঁচটি উপায়

 সপ্তাহের বহুল প্রতীক্ষিত বৃহস্পতিবারের রাত এবং আপনি একটা নির্ভার ইউকেন্ড কাটানোর কথা ভাবছেন। আপনি বিছানায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং চিন্তামুক্ত শুক্রবার সকালে ঘুম ভাঙল যখন আপনার ফোনটি বেজে উঠলো তখন। আপনি আপনার আইটি ম্যানেজারের কাছ থেকে অসাধারণ একটি মেসেজ পেলেন – আপনার কোম্পানি র্যানসামওয়্যার হামলার শিকার হয়েছে।

এতে আপনার ছুটির দিন শুধু নষ্টই হবে না, এর সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে একটি সিদ্ধান্তও নিতে হবে। আর আপনার এই সিদ্ধান্ত আপনার কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন, নিয়ন্ত্রক এবং সুনামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে সেকেন্ড, মিনিট কিংবা ঘণ্টার মধ্যে।

সফোস স্টেট অব র্যানসামওয়্যার ২০২১ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৬৬ শতাংশ উৎপাদনশীল ও উৎপাদক প্রতিষ্ঠান স্বীকার করেছে যে ২০২১ সালে সাইবার আক্রমণের জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সাইবার আক্রমণের আশঙ্কার বিষয়টি এখন আর যদি কিংবা কিন্তু পর্যায়ে নেই।

যেহেতু সাইবার আক্রমণগুলো আরও সাধারণ হয়ে উঠছে এবং তাদের জটিলতা বাড়ছে, অনেক এন্টারপ্রাইজ এক্ষেত্রে ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাস এ সার্ভিস (সিসাস)’ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তার সুবিধা নিচ্ছে। এটি এমন একটি নিরাপত্তা মডেল, যেখানে আউটসোর্সড বিশেষজ্ঞরা চাহিদা অনুযায়ী নিরাপত্তার বিষয়টিতে সমাধান প্রদান করেন।

এ ধরনের পরিষেবা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো ২৪/৭ সময়ে হুমকি সনাক্তকরণ, নির্ণয় করা এবং রেসপন্স দেখানোর সক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারে। সেই সঙ্গে সনাক্তকরণ এবং রেসপন্স (এমডিআর) করতে পারে যা সিসাসের একটি মূল ফিচার হিসাবে কাজ করে।

যদিও এমডিআর সমাধানের একটি মাত্র উপায়। তবুও সিসাস মডেল থেকে পুরোদমে সুবিধা পেতে, প্রতিষ্ঠানের একটি বিস্তারিত রেসপন্স পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। এমডিআরের সাহায্যে এবং একটি সামগ্রিক রেসপন্স পরিকল্পনার মাধ্যমে কোম্পানি একটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ক্রিয়াকলাপ তৈরি করতে পারে, যা তাদের তীব্র ও শক্তিশালী হুমকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে।

শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ অ্যালাইনমেন্ট এবং সুবিন্যস্ত সহযোগিতা পেতে এখানে সঠিক রেসপন্স পরিকল্পনা বিকাশের পাঁচটি মূল পদক্ষেপ দেয়া হলো:

১) চটপটে থাকুন: এটা মনে রাখতে হবে, ঘটনার রেসপন্স পরিকল্পনার কিছু উপাদানের জন্য একটি নমনীয় পদ্ধতির প্রয়োজন হবে। এমনকি একটি শক্ত পরিকল্পনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন হুমকির বিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সেই অনুযায়ী তাদের ঘটনার রেসপন্স পরিকল্পনা সংশোধন করতে সক্ষম হতে হবে।

২) ক্রস-টিম সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিন: একটি সংস্থার সবকিছুই সাইবার আক্রমণের ফলে প্রভাবিত হয়। তাই, সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের সময় সবগুলো দল- অর্থ, আইন, বিপণন, পিআর এবং আইটিসহ অন্যদের যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

৩) ভালো একটি আইটির পরিবেশ বজায় রাখুন: একটি শক্তিশালী ও পরিচ্ছন্ন আইটি পরিবেশ ঘটনা ঘটার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। তাই ওপেন রিমোট ডেস্কটপ প্রোটোকল (আরডিপি) পোর্টের মতো অস্বাভাবিক দুর্বলতার সমাধান এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে নিয়মিত সেগুলো চেক করা গুরুত্বপূর্ণ।

৪) ইনসিডেন্ট রেসপন্স পরিকল্পনার হার্ডকপি সংরক্ষণ করুন: আপনার হাতে যেন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলার জন্য প্রিন্ট করা কপি থাকে সেটি নিশ্চিত করুন। যদি কোনো কোম্পানি হামলার শিকার হয়, তাহলে সেই কৌশলের ডিজিটাল কপিগুলো যেন এনক্রিপ্ট করা থাকে।

৫) ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে এমডিআর বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতার সুবিধা নিন: খুবই অভিজ্ঞ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দলও এমআরডি অপারেশন দলের কাছ থেকে অসাধারণ সব ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে তথ্য পেতে পারেন এবং সক্রিয় হামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করার কাজটিও শিখতে পারেন। এই পরিষেবার সঙ্গে যুক্তরা বিশেষ হুমকি মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে শিক্ষিত এবং কীভাবে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে রেসপন্স করা যায় সেটি তারা জানেন।

গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করবেন যেভাবে

 

অধিকাংশ জায়গায়ই সিসি ক্যামেরা নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকলেও বেশ কিছু জায়গায় খারাপ উদ্দেশ্যে গোপন ক্যামেরা লাগানো থাকে। নিজের প্রাইভেসি বিপন্ন হওয়ার আগে গোপন নজরদারির ব্যবস্থা আছে কীনা সেটা শনাক্ত করা অবশ্যই জরুরি। কোনো প্রাইভেট প্লেসে এই গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে কীনা তা বোঝা যাবে নিচের উপায়গুলোর মাধ্যমে:

আয়না বা গ্লাস পরীক্ষা করুন
কোনও প্রাইভেট প্লেসে গেলে প্রথমেই সেখানকার আয়না কিংবা গ্লাস পরীক্ষা করে দেখুন। দেখবেন আয়নাটি কীভাবে বসানো আছে। আয়নাটি কী দেয়ালে ঝোলানো, নাকি দেয়ালে লাগানো? নাকি দেয়ালের সঙ্গে একেবারে খোদাই করা অবস্থায় আছে? টু ওয়ে মিরর বা একপাশে আয়না ও অন্য পাশে স্বচ্ছ এমন গ্লাসগুলো সাধারণত দেয়ালে একেবারে খোদাই করা অবস্থায় থাকে।

আয়নাতে টোকা দিন
আপনার আঙুলের গিঁট দিয়ে আয়নাতে টোকা দিন। আয়না যেহেতু দেয়ালে বসানো আছে, সুতরাং নরমাল আয়না হলে তা সাধারণ ফ্ল্যাট আওয়াজ করবে। কিন্তু টু ওয়ে মিরর হলে আয়নায় আঘাত করলে ফাঁপা শব্দ করবে।

আয়নার ভেতরে খুব কাছে থেকে তাকান
এটা যদি টু ওয়ে মিরর হয় তাহলে আয়নার কাছে চোখ নিয়ে তাকালে আয়নার অন্য সাইড দেখা যাবে। আপনার মুখ আয়নাতে চেপে ধরুন এবং হাত দিয়ে মুখের সাইডে এমনভাবে ব্লক করুন যাতে কোনো আলো আয়নায় না পড়ে। এটা টু ওয়ে মিরর হলে আয়নার অপর পাশে কী আছে আপনি তা দেখতে পারবেন।

লাইট ব্যবহার করুন
কোনো ফ্লাশ লাইট বা সেলফোনের লাইট বা টর্চলাইটের আলো ফেলুন আয়নার ওপর। আয়নার খুব কাছে থেকে আলোটি ফেলুন। সম্ভব হলে ঘরের অন্য লাইট বন্ধ করে দিন, শুধু আপনার হাতের ওই আলোটি ছাড়া। এটা টু ওয়ে মিরর হলে, অন্য পাশে কী আছে যা দেখা যাবে।

নখ দিয়ে পরীক্ষা করুন
টু ওয়ে মিরর পরীক্ষা করার সবচেয়ে দুর্বল পদ্ধতি হলো নখ দিয়ে পরীক্ষা করা। এর ফলাফল নিখুঁত নাও হতে পারে। তবে এই পদ্ধতিও জেনে রাখা ভালো।

ব্যবহার করুন সেলফোন
সিকিউরিটি ক্যামেরা বা গোপন ক্যামেরা থেকে এক ধরনের ফ্রিকোয়েন্সি আসে যেটা মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। যদি কোনো জায়গায় বা রুমে দেখেন আপনার মোবাইল ফোন সার্ভিস দিচ্ছে না এবং আপনার নজরে কোনো ক্যামেরাও পড়ছে না, তাহলে মনে করবেন সেখানে কাছাকাছি কোথাও গোপন ক্যামেরা আছে।

অনলাইনে হয়রানির শিকার? করণীয়

 

ক্যাম্পাসেই নাদিয়া আর রাহাতের (ছদ্মনাম) পরিচয়, তারপর প্রেম। আসা হল পরষ্পরের আরও কাছাকছি। বছর দুই না যেতেই ভেঙ্গে গেল সম্পর্ক। ঘটনা এতটুকুতে শেষ হলে পারত। কিন্তু রাহাত তা হতে দিল না। ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে বিভিন্ন গ্রুপ আর ইউটিউবে ছড়িয়ে দিল নাদিয়ার সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি ও ভিডিও। যে ছিল হৃদয়ের দাবিদার আজ সে এক নির্মম বিভীষিকা। অপমানে লজ্জায় নাদিয়ার মনে হতে লাগল আত্মহননই বুঝি মুক্তির একমাত্র পথ।

নাদিয়ার মত এমন ভুক্তভোগী বোন হয়তো আছে আমার আপনার আশেপাশেই। সোশাল মিডিয়ার এ যুগে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্যের আদান প্রদান যেমন সহজতর হয়েছে তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি/ভিডিও অপব্যবহার করে ব্লেকমেইলিংসহ নানান রকম হয়রানির পরিমাণ।

কোন কোন ক্ষেত্রে ভিকটিম নিজেও জানছেন না তার তথ্য ও ছবি ব্যবহার করে অপরাধী/অপরাধীরা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে আপত্তিকর মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট বা উগ্র ধর্মীয়/সন্ত্রাসবাদী ধ্যানধারণা। প্রতিকার চাওয়া তো দূরের কথা অনেক সময় সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে তা প্রকাশও করাও মুশকিল হয়ে পড়ে। এ ধরণের সাইবার অপরাধের শিকার হতে পারেন যে কেউ। এমতাবস্থায় আপনার করণীয় কি?

কি ধরণের হয়রানির শিকার হতে পারেনঃ
ফেসবুক বা ইমেইল একাউন্ট হ্যাক হওয়া, ফেক আইডি খুলে আপত্তিকর ছবি/ভিডিও শেয়ার, উগ্রধর্মীয়-সন্ত্রাসবাদী কনটেন্ট শেয়ার, অন্যকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তার বিকৃত তথ্য ও ছবি ব্যবহার, হুমকি দিয়ে টাকা আদায়, অনলাইনে প্রশ্নফাঁস ইত্যাদি।

কোথায় অভিযোগ করবেনঃ
প্রাথমিকভাবে অভিযোগ করতে পারেন আপনার নিকটস্থ থানায়। অথবা, ই-মেইলে অভিযোগ জানাতে পারেন cyberhelp@dmp.gov.bd এই ঠিকানায়। অথবা যদি পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ করতে চান তাহলে Google Play Store থেকে ডাউনলোড করুন ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম ডিভিশন এর Hello CT অ্যাপ। এ অ্যাপ ব্যবহার করে পাঠাতে পারবেন আপনার ব্যক্তিগত তথ্য।

সরাসরি কথা বলার প্রয়োজনবোধ করলে চলে যেতে পারেন ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম ডিভিশনের Cyber Crime Unit অফিসে। কথা বলতে পারেন দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে এই নাম্বারে-০১৭৬৯৬৯১৫২২ । ঠিকানাঃ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ৩৬ শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী স্মরণী, রমনা, ঢাকা।

কিভাবে অভিযোগ করবেনঃ
ভিক্টিমাইজড হলে যত দ্রুত সম্ভব অভিযোগ জানানো উচিত। অভিযোগ করার ক্ষেত্রে আপনার অভিযোগের স্বপক্ষে কিছু প্রমাণাদি প্রয়োজন। যেমন এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আলামতের স্ক্রীনশট, লিংক, অডিও/ভিডিও ফাইল অথবা রিলেটেড ডকুমেন্টস। স্ক্রীনশট সংগ্রহের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন Address Bar এর URL টি দৃশ্যমান হয়।

Hello CT অ্যাপ ও ই-মেইল এর মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে চাইলে এসব কন্টেন্ট এটাচ করে আপলোড করতে পারেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে সরাসরি সফট কপি দেয়া যেতে পারে। সর্বোপরি আপনি প্রয়োজনে Cyber Crime Unit এর অফিসারদের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন যা আপনার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সহায়ক হতে পারে।

প্রতিরোধ আপনার হাতেই: একটু সচেতন হলেই আপনি এড়াতে পারেন এমন বিব্রতকর ঘটনা। জেনে নিন নিরাপদ থাকার কিছু কৌশল

অচেনা, অপরিচিত কারও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করবেন না। ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সবার জন্য উম্মুক্ত রাখবেন না। আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস চেক করুন। অন্য কারও পোস্টে আপনাকে ট্যাগ করার অপশন উম্মুক্ত রাখবেন না।

প্ররোচিত হয়ে উস্কানিমূলক ছবি/ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। সন্দেহজনক কোন লিংকে ক্লিক করবেন না। লগ-ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করুন এবং প্রতিবার ব্যবহার শেষে লগ-আউট করুন। সন্দেহজনক কোন ইমেইল বা মেসেজ এর উত্তর প্রদান হতে বিরত থাকুন।

আপনার কোন পরিচিতজনের বিপদের কথা জানিয়ে ইমেইল অথবা মেসেজ আসলে আগে যাচাই করুন এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। বিপুল পরিমাণ অর্থ লটারীতে জিতেছেন-এমন তথ্যসহকারে পাঠানো ইমেইল বা মেসেজ এর উত্তর প্রদান হতে বিরত থাকুন। এসকল তথ্যসম্বলিত মেইল অনুসন্ধানে ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে।

একজন সুনাগরিক হিসেবে আপনার সচেতনতা ও সহযোগিতা আইনী ব্যবস্থার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাজেই এসংক্রান্ত তথ্য দিন, নিরাপদে থাকুন। আপনার যেকোন প্রয়োজনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বদা আপনার পাশে রয়েছে।

Professional Skills

IsDB-BISEW আইটি স্কলারশিপ (IT Scholarship) প্রোগ্রামের বাছাই পরীক্ষা

IsDB-BISEW আইটি স্কলারশিপ (IT Scholarship) প্রোগ্রামের বাছাই পরীক্ষা আইএসডিবি বাংলাদেশে মুসলিম শিক্ষার্থীদের এটি একটি উন্নত বিশাল সুযোগ     ...